ভারতে ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রথম দুই মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর) চিনি উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশটিতে চিনির রিকভারি রেট (উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আখ থেকে চিনি পাওয়ার পরিমাণ) বেড়েছে। পাশাপাশি প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় দ্রুত প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম চিনি উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
ভারতের শিল্প সংগঠন আইএসএমএ জানিয়েছে, নভেম্বর শেষে দেশজুড়ে মোট চিনি উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪১ লাখ টনে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার টন। এ সময় ভারতের সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রে উৎপাদন তিন গুণ বেড়ে ১৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। উত্তর প্রদেশে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে দক্ষিণের কর্ণাটকে উৎপাদন কমে ৭ লাখ ৭৪ হাজার টনে নেমে এসেছে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ লাখ ১২ হাজার টন।
ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ (এনএফসিএসএফ) জানিয়েছে, মৌসুমের প্রথম দুই মাসে চিনির রিকভারি রেট বেড়ে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বিশ্ববাজারে চিনির দাম এরই মধ্যে বেশ কয়েক বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ভারতে চিনি উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে পণ্যটি রফতানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে দাম আরো কমে আসতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে আইএসএমএ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির ন্যূনতম বিক্রয় মূল্য ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংগঠনটি ভারত সরকারকে ন্যূনতম মূল্য পুনর্নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার কমানোয় রফতানিযোগ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছে এনএফসিএসএফ। গত মাসে দেশটি ১৫ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দিয়েছে।